ইসলামে গানবাদ্য এবং একজন শরিয়ত বয়াতি

মাওলানা শিব্বীর আহমদ

শরিয়ত সরকার বয়াতি নামে এক বাউল শিল্পীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তাকে গ্রেফতার করে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়া হয় এবং রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ বাউল শিল্পীকে গ্রেফতারের পর থেকেই চলছে সংগীত পাড়ায় মাতম। মাতম চলছে আমাদের গর্বের সংবাদমাধ্যমগুলোতেও বিবিসির প্রতিবেদনটি লক্ষ করুন- ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে রিমান্ডে এক বয়াতি : প্রতিক্রিয়া কী হবে’ শীর্ষক শিরোনামে বলা হয়েছে- ‘পুলিশ বলেছে, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এক অনুষ্ঠানে গানের আগে দেয়া বক্তব্যে শরিয়ত সরকার নামের এই বয়াতি ইসলামের নবী এবং ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করেছেন- এমন অভিযোগে এলাকায় বিক্ষোভ হয় এবং স্থানীয় এক ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার জের ধরেই মি. সরকারকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতারের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ প্রতিবাদকারীরা বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে লোকসংগীতের বিকাশ এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে আবারও বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলো। … মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে যে, শরিয়ত সরকার বয়াতি কয়েকদিন আগে এক অনুষ্ঠানে গানের আগে বক্তব্যে বলেছিলেন, গান-বাজনা

হারাম বলে ইসলাম ধর্মে কোনো উল্লেখ নেই। কেউ প্রমাণ দিলে তিনি গান ছেড়ে দেবেন। সেই বক্তব্যের ভিডিও ইউটিউবে দেখেই বাদী মামলাটি করেছেন…. (বিবিসি,

১৩.০১.২০২০] শরিয়ত বয়াতি গ্রেফতারের ঘটনায় অন্য বয়াতিরা হতাশ। তাদের কণ্ঠ থেকে ক্ষোভ ঝড়ছে। হতাশ গান-বাদ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত নানা মহল। তবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন: শরিয়ত বাউল কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেই গ্রেফতার। জাতীয় সংসদে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শরিয়ত বাউল নিশ্চয় কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রশ্নটি করেছিলেন জাসদের সাংসদ হাসানুল হক ইনু। পত্রিকার ভাষায় ‘সম্পূরক প্রশ্নে জাসদের সাংসদ হাসানুল হক ইনু বাউলগান ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যে স্থান পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে শরিয়ত বাউলের গ্রেপ্তার হওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, আইসিটি আইনে শরিয়ত বাউলকে গ্রেপ্তার ও ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে, বাউলশিল্পীদের চুল কেটে দেওয়া হচ্ছে। গ্রাম থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সামরিক শাসকেরা যে জবরদখলের রাজনীতি শুরু করেছিল, তখন যাত্রা, পালাগানসহ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর চলছেই। সৃষ্টির সেই শুরুতে মহান রাব্বুল আলামিন যখন হযরত আদম আলাইহিস সালামকে সেজদা না করার অপরাধে ইবলিসকে বেহেশত থেকে নিচে নামিয়ে দেন, তখন থেকেই শুরু হয়েছে এই লড়াই। একদিকে শয়তাে নৱ ঘোষণা সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেই তাকে (শরিয়ত) i guly فيما الغربي،

একটি আক্রমণাত্মক কার্যকাণ্ড পরিচা লনা করেছিল। তার রেশ এখনো চলছে। ইনু জানতে চান, সরকার বিশ্ব ঐতিহ্যের বাউল সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেবে কি না? জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘নিশ্চয়ই কোনো অপরাধের গ্রেপ্তার করा হয়েছে কোনো ব্যক্তিবিশেষ অপরাধে সম্পৃক্ত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাউলশিল্পীরা এমন কোনো কাজ যেন না করেন, যার কারণে বাউলগান প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তারা যেন সেই ধরনের কাজ না করেন। সেই ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকা দরকার আর তাদেরও সচেতন করা দরকার। হাসিনা বলেন, বাউলগানের তো কোনো দোষ নেই। কিন্তু বাউলগান যারা করেন, তাদের ব্যক্তিবিশেষ কোনো অপরাধে সম্পৃক্ত মাইন তার আপন গতিতে চলবে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর সঙ্গে গানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। প্রধান- মন্ত্রী আরো বলেন, ‘যারা বাউলগান গাইছেন, তারা সবাই অপরাধের এরকম ঊর্ধ্বে এই গ্যারান্টি কি মাননীয় সংসদ সদস্য দিতে পারবেন? বাউলশিল্পীরা কোনো অপরাধ করেন না বা করেননি- এটা তো ঠিক নয়। নিশ্চয়ই কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রথম আলো,

এ দিকে সংসদের বাইরেও শরিয়ত বয়াতিকে নিয়ে চলছে নানা ধরনের আন্দোলন। আন্দোলন চলছে তার বিচারের দাবিতেও। তার ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধনও হয়েছে। পত্রিকার রিপোর্ট- ধামরাইয়ের সুয়াপুর ইউনিয়নের রৌহারটেক এলাকায় আল্লাহ, নবী-রাসুল, পবিত্র কুরআন ও আলেম-উলামাদের নিয়ে কটূক্তিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় মোপ্তার হওয়া বাউল শিল্পী শরিয়ত সরকারের ফাঁসি ও তার মদদদাতাদের উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধন করেছে ….. বক্তরা আরো বলেন, শরিয়ত সরকার একজন ভণ্ড শিল্পী। আমরা তার ফাঁসি চাই এবং তার মদদদাতাদেরও উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি। কালের কণ্ঠ, ১৫.০১.২০২০।

एक আর বাতিলের লড়াই তো ফেব্রুয়ারী ২০ ইং

ثم لانيتهم من صراط بين ايينهم ومن خلفهم وعن أيمانهم وعن شمايلهم আপনি যে আমাকে বিভ্রান্ত করেছেন। তাই ভালো-মন্দ, পাপ-পুণ্য থাকবেই। তার কসম করে বলছি, আমি অবশ্যই তাদের জন্য আপনার সরল পথে বসে থাকব। অতঃপর তাদের কাছে আমি আসব তাদের সামনের দিক থেকে, তাদের পেছন থেকে, তাদের ডান দিক থেকে এবং তাদের বাম দিক থেকে [সুরা আরাফ ৭১]

আর আল্লাহর ঘোষণা ان عبادئ ليس لك عليهم سلطن

আমার (খাঁটি) বান্দা যারা, তাদের ওপর তোমার কোনোই কর্তৃত্ব নেই। [সুরা বনী ইসরাইল : আরেক আয়াতে আল্লাহর ঘোষণা

تريدون ليطفؤا نور الله بأفواههم والله متم ولو كره الكبرون তারা আল্লাহর নুরকে ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দিতে চায়, আর আল্লাহ তাঁর নুর পূর্ণ করবেন, যদিও কাফেররা অপছন্দ করে। [সুরা সফফ : ৮

শয়তান তার মিশনে সদা অবিচল। মানুষকে বিভ্রান্ত করাই তার কাজ। আল্লাহর বান্দাদেরকে আল্লাহর পথ থেকে সরিয়ে নিয়ে আসাই তার লক্ষ্য। করুন আল্লাহ তায়ালা একদিকে শয়তানকে তার আব্দার-মোতাবেক কিয়ামত পর্যন্ত আয়ু দিয়েছেন আর শয়তান মানুষকে বিভ্রান্ত করবে বলে প্রতিজ্ঞা করেছে, সেই প্রতিজ্ঞার কথা, শয়তানের নানামুখী চক্রান্তের কথা আল্লাহ আবার মানুষকে ওহির মধ্য দিয়ে জানিয়েও দিয়েছেন। তিনি মানুষের সামনে দুটি পথই উন্মুক্ত রেখেছেন। “একটি আল্লাহর পথ, আরেকটি শয়তানের পথ। নিজের ইচ্ছাকে কাজে লাগিয়ে এ দুটির কোনো একটিকে গ্রহণ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। এবং এ মর্মে সতর্কও করেছেন- শয়তানের পথ হল। চিরস্থায়ী শান্তির পথ। দুনিয়ার জীবনে শয়তানের পথ বর্জন করার মধ্য দিয়েই অর্জিত হবে পরকালের অনন্ত অসীম সুখময় বেহেশত মানুষের মধ্যে আল্লাহ ভালো ও পুণ্যময় কাজের প্রতি

আগ্রহ যেমন সৃষ্টি করে দিয়েছেন, তেমনি মন্দ বিষয়ের প্রতি আসক্তিও দিয়েছেন। এর পাশাপাশি তিনি মানুষকে ওহির মাধ্যমে সচেতন করে দিয়েছেন। কুরআনের ভাষায় অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও তার সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন। সে-ই সফলকাম হবে, যে নিজেকে পবিত্র করবে, আর সে-ই ব্যর্থ হবে, নিজেকে কলুযাচ্ছন্ন করবে। [সুরা শামস : ৮-১০]

পাপ করার পর আবার সেখান থেকে সঠিক পথে ফিরে আসারও সুযোগ দিয়ে রেখেছেন মহান রাব্বুল আলামি ন। কিন্তু মহান প্রভুর কোনো আদেশ লঙ্ঘন করে পাপে জড়িয়ে যখন কেউ সেই পাপকে বৈধতা দানের জন্য কুরআন-হাদীসের অপব্যাখ্যা করে তখন তার অন্যায়ের কি আর কোনো সীমা থাকে? ইসলামি শরিয়তে যা স্পষ্টভাবে হারাম করা হয়েছে, এমন একটি বিষয়কে যখন ভক্তপরিবেষ্টিত হয়ে নানা স্তুল ব্যাখ্যা করে জায়েজ বানানোর অপচেষ্টা করে, কাজটি যে অতিশয় জঘন্য তা তো বলাবাহুল্য। শরিয়ত বয়াতি এমন গুরুতর অপরাধই করেছেন ইসলামে গান-বাদ্য হারাম- এটি একটি স্বীকৃত বিষয়। অনেকগুলো হাদীসে স্পষ্টভাবে এবং পবিত্র কুরআনের একাধিক আয়াতে প্রচ্ছন্নভাবে গানবা দ্যকে হারাম করা হয়েছে। গানবাদ্য হারাম হওয়ার পক্ষে সাহাবী তাবেয়ীগণের ফতোয়াও রয়েছে। লক্ষ

হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন ليكونن من أمتي أقوام، ينتجون

الحر والحرير، والحمر والمعازف আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু মানুষ সৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার রেশম মদ আর বাদ্যযন্ত্রকে হালাল মনে করবে। (সহীহ বুখারী, হাদীস : ৫৫৯০) نـاس مـن التـي الخـنـر رؤوسهم بالمعارف، والمغنيات، SM

منهم القردة و আমার উম্মতের কিছু লোক মদের নাম পরিবর্তন করে তা পান করবে, তাদের মাথার ওপর বাদ্যযন্ত্র ও গায়িকা নারীদের গান বাজতে থাকবে। আল্লাহ তাদেরসহ জমিন ধ্বসিয়ে দেবেন এবং তাদের কতককে বানর ও শূকরে পরিণত করবেন। [সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস ৪০২০; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস : ৬৭৫৮] إن الله تعتني

هدی ان رخت all في আল্লাহ আমাকে বিশ্বজগতের জন্যে রহমত ও হেদায়েতস্বরূপ পাঠিয়েছেন এবং আমাকে তিনি আদেশ করেছেন, আমি যেন বাদ্যযন্ত্র ঢোল-তবলা আর জাহেলি যুগের পূজনীয় মূর্তির বিলোপ

সাধন করি। [মুসনাদে আহমদ, হাদীস ২২২১৮] عـن نبـع المغنيات، وعن وعن أكل

انهن السانين রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসা- গ্রাম গায়িকা দাসী কেনাবেচা করতে নিষেধ করেছেন। এবং সেগুলোর উপার্জন ও বিক্রি করে মূল্য খেতেও নিষেধ করেছেন। [সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস : ২১৬৮।

নযর ইবনে হারেস নামের এক লোক বিদেশ থেকে একটি গায়িকা বাদী কিনে এনে তাকে গানবাদ্যে নিয়োজিত করল। কেউ যদি কুরআন শোনার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করত, তখন সে তার গায়িকাকে আদেশ করত তাকে যেন গান শোনায়। আর সে বলত মুহাম্মদ তো তোমাদেরকে কেবল নামায-রোয়া আর তার সম্মুখে যুদ্ধ করতে বলে, তার চেয়ে বরং এটা অনেক ভালো। এ প্রেক্ষিতে নাজিল হয় পবিত্র কুরআনের

এ আয়াত ومن الناس من يشتري لهو الحديث سبيل ويتجدها . عدات

কোনো কোনো মানুষ এমন, যারা আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করার জন্য অজ্ঞতাবশত খেল-তামাশার বস্তু করে এবং আল্লাহর পথ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে। তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি। [সুরা লুকমান: ৬] এ আয়াতটি শানে নুযুলসহ যদি কেউ পড়ে, তাহলে তার সামনে আর কোনো অস্পষ্টতা থাকতে পারে না যে, এখানে গানবাদ্যকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সাহাবীগণ এ আয়াত থেকে এমনটাই বুঝেছেন। বিখ্যাত সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.কে এ আয়াতের ব্যাখ্যা জিজ্ঞেস করা হয়েছি ফেব্রুয়ারী ‘২০ ইং

ল। তিনি আল্লাহর নামে কসম করে বলেছেন, এখানে গানের কথা বলা হয়েছে। সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা., হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, জাবের রা. প্রমুখও অনুরূপ ব্যাখ্যাই করেছেন। তাবেয়ী অনুর মধ্যে ঢুরিমা, মায়মুন ইবনে মিহরান, মাকুবুল, সাঈদ ইবনে মানেই জুবায়ের, মুজাহিদ, হাসান বসরী প্রমুখ এ কথাই বলেছেন।

সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. একবার পথ চলছিলেন। তার সঙ্গে ছিল তার শিষ্য বিখ্যাত তাবেয়ী নাফে রহ.। হঠাৎ করে তিনি বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ পেলেন। তখন সঙ্গে সঙ্গেই তিনি কানে আঙ্গুল দিলেন। কিছুদূর গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন- গানের আওয়াজ শোনা যায় কিনা। নাফে’ বললেন- হ্যাঁ, শোনা যায়। এরপর এভাবেই আরো সামনে গেলেন। যখন তিনি নিশ্চিত হলেন- গানের আওয়াজ আর শোনা যাচ্ছে না, তখন তিনি আঙ্গুল নামিয়ে আনলেন। এরপর বললেন: একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন আওয়াজ শুনেছিলেন, তখন তিনি এভাবেই কানে আঙ্গুল দিয়েছিলেন। [মুসনাদে আহমদ, হাদীস ৪৯৬৫; সুনানে আবু দাউদ,

এতকিছুর পরও যদি কেউ ইসলামি শরিয়তে গান-বাদ্য নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি না মানে তাহলে তার অজ্ঞতা ও হঠকারিতা কি ঢাক পিটিয়ে বোঝানো যাবে।

অনেকে হাদীসে বর্ণিত ‘দফ’ দিয়ে সবরকম বাদ্যযন্ত্রকেই অনুমোদন দিয়ে দিতে চায়। অথচ দফ তো কোনো বাদ্যযন্ত্রই না। এর এক পাশ খোলা থাকে এবং এর আওয়াজও হয় মোটা। আর দক্ষের বিষয়টিও তো এমন নয়- যেকোনো ক্ষেত্রেই তা বাজানো যাবে। আওনুল বারী গ্রন্থে ‘দয়’-এর পরিচয় দেয়া হয়েছে এভাবে- এর আওয়াজ চিকন নয়, সুরেলা ও আকর্ষণীয়ও নয়। আর কোনো দয়-এর আওয়াজ যদি চিকন ও আকর্ষণীয় হয় তখন তা আর দফ থাকবেই না, তা বাদ্যযন্ত্রে পরিণত হবে। [২/৩৫৭]

আমাদের বর্তমান সময়ে যে গান-বাজ নার ব্যাপকতা, তা তো অনেক কারণেই নিষিদ্ধ হবে। এসব গানে একদিকে রয়েছে যেমন অশ্লীলতার ছড়াছড়ি, অপরদিকে ধর্মের নামে বাউল কিংবা মারফতি গানগুলোতে রয়েছে আমাদের আকিদা-বিশ্বাসের

সঙ্গে সাংঘর্ষিক নানা কথা। এসব গান আরো অনেক গোনাহের পথ উন্মোচন করে। মানুষকে ব্যভিচারের প্রতি আকর্ষণ করে পবিত্র কুরআন ও আখিরাতে প্রতি অনীহা সৃষ্টি করে মানুষের মনে। তাই বর্তমান কালের প্রচলিত গান-বাদ্যকে জায়েজ বলা কুরআন-হাদীস-সাহ বী-তাবেয়ীদের শিক্ষাকে বিসর্জন দেয়া। সন্দেহ নেই, ইসলামের সঠিক শিক্ষা গ্রহণ করতে চাইলে এসবের কোনো একটিকেও বিসর্জন দেয়ার সুযোগ আমাদের নেই।

শরিয়ত বয়াতি চ্যালেঞ্জ করেছেন ইসলামে গান-বাদ্য জায়েজ, কারণ পবিত্র কুরআনে নাজায়েজ বলা হয়নি কোথাও একে অথচ তার এ কথাটিই তার অজ্ঞতার প্রমাণ বহন করে। পবিত্র কুরআন ইসলামি শরিয়তের অন্যতম উৎস, একমাত্র উৎস নয়। মুসলমানদের নিকট এ কথা সর্বস্বীকৃত পবিত্র কুরআনের মতো পবিত্র হাদীস দিয়েও আমাদের অনেক বিধান প্রমাণিত হয়। তাই কেবল কুরআনে নাই বলেই গান গাওয়া বৈধ হয়ে যাবে এটা নিরেট মূর্খতা ছাড়া আর কিছুই নয়। আর উপরে আমরা তো প্রমাণ করেই এসেছি- গানবাদ্যের নিষিদ্ধতা প্রমাণিত কুরআন থেকে, হাদীস থেকে এবং সাহাবী-তাবেয়ী গণের জীবনাচার থেকেও এক বয়াতি খোলামেলা কথা বলে

এখন জেল খাটছেন। আর নামে-বেন ামে অনেক ‘বয়াতি এখন তার পক্ষে তাত্ত্বিক লড়াই করছেন। তারা বলতে চাইছেন- পবিত্র কুরআনের সুরা লুকমানের উপর্যুক্ত আয়াতে নাকি গানের কথা বলা হয়নি। এ কথা তো আমরাও মানি- এখানে স্পষ্টভাবে গানের কথা বলা হয়নি, কিন্তু আয়াতটি যে গান ও গায়িকার প্রেক্ষাপটেই অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রমাণিত হওয়ার পরও বলা যাবে, এখানে গান নিষিদ্ধ করা হয়নি? উপরন্তু যে সকল সাহাবী কুরআনের ব্যাখ্যাকার হিসেবে সমাদৃত ছিলেন, তারাও যখন বলছেন- এখানে গানের কথাই বলা হয়েছে, এরপর আর সন্দেহ সৃষ্টির পায়তারা কেন। তারা আবার ‘চোরের মার বড় গলা’র মতো বর্তমান সময়ের প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ড. ইউসুফ কারযাভী প্রমুখের উদ্ধৃতিও দেয়।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *