ইসলামে নারীর মর্যাদা

লেকখঃ নুরে তাজকিয়া।

নারীকে নিয়েই প্রকৃতির যত আনন্দ মেলা। দুনিয়ার বুকে যার সঙ্গে শিশুর প্রথম পরিচয় ঘটে সে একজন নারী। নারীকে নিয়েই জীবন সংসার। চেষ্টা করলেও ভুলতে পারবে না জগৎ নারীর দান, শোধাতে পারবে না নারীর ঋণ, অস্বীকার করতে পারবে না নারীর স্নেহ; নারীর সেবা; নারীর ভালোবাসা। নারীর অভাবে শুধু সংসারই নয়, স্বর্গও ফাঁকা। সৃষ্টির উদ্দেশ্য সাধনে নারীর ভূমিকা পুরুষের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। নারীকে বাদ দিলে সৃষ্টির জৌলুসই শুধু কমে না, তার প্রাণও আহত হয় মারাক্তক ভাবে। নারীর অনাদরে, নারীর অপমানে ও অপব্যবহারে তাই সৃষ্টির বুক কাঁপে, মুখপোড়ে, চোখে আগুন জ্বলে। তবুও নারীর প্রতি চলে অবিচার, বাড়াবাড়ির অন্ত নেই নারীকে নিয়ে।

ইসলাম ধর্ম বন্ধ করতে চায় এ বাড়াবাড়ি, নারীকে দেখতে চায় তার আপন মহিমায়, প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তাকে আপন মর্যাদায়। ইসলাম বলে নারী দেবীও নয়, দানবও নয়; বরং মানবী। আদম সন্তান হিসেবে ভালোবাসা পাওয়া নর-নারী উভয়েরই সমান অধিকার। নারী মা, নারী

বোন, নারী প্রিয়া, নারী কন্যা। নারীর অপমানে নরের মুখে চুন পড়বে, নীচ হবে তার মাথা। নারীর মান-সম্মান মানে পুরুষের মান-সম্মান। নারীর অমর্যাদা মানবতার অপমান। নারীর যথার্থ মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় স্বভাব ধর্ম ইসলাম রেখেছে অনন্য অসাধারণ মহান অবদান।

আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন- ‘মানবকুলকে মোহগ্রস্থ করেছে নারী, সন্তান-সন্তুতি, রাশিকৃত স্বর্ণ-রৌপ্য, চিহ্নিত অশ্ব, গবাদি পশু পাখি এবং ক্ষেত খামারের আকর্ষণীয় বস্তু সামগ্রী।’ (সূরা:আলু-ইমরান, আয়াত-১৪) এ আয়াতে আল্লাহ পাক বিশ্ববাসীর জন্য ছয়টি নিয়ামতের কথা উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে নারী জাতিকে সবচেয়ে আকর্ষণীয় মোহনীয়, সম্মানিতা নিয়ামত হিসেবে অভিহিত করেছেন। পুরুষের সহজাত স্বভাবের মধ্যে তাদের প্রতি সৃষ্টি করেছেন স্নেহ, মমতা, প্রেম-ভাে লাবাসা। এটাও নারী জাতির প্রতি দয়াময় সৃষ্টিকর্তার এক বিরাট মেহেরবানী। নারী জাতি যে পুরুষদের জন্য এক মহানিয়ামত, তার বহু বর্ণনা প্রিয় নবীজির হাদীস শরীফেও পাওয়া যায়। হযরত আনাস রা. বলেন, নবী করীম সা. ইরশাদ করেন, পৃথিবীতে আমার চোখের শীতলতা হচ্ছে নারী। (নাসাঈ শরীফ। ৯৩)

দ্বীনদার হিসেবে নারীর ফজিলত

মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন: ‘স্মরণ করুণ সেদিনের কথা, যেদিন আপনি ঈমানদার পুরুষ ও নারীদেরকে তাদের সম্মুখে ও ডান পার্শ্বে তাদের নূর ছোটাছুটি করবে। (তাদের বলা হবে) শরীফ) আজ তোমাদের জন্য অনন্ত অসীম আনন্দময় জান্নাতের সুসংবাদ, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত। তাতে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই মহাসাফল্য (সুরা: হাদীদ, আয়াত ১২)।

উল্লিখিত আয়াত দ্বারা এ কথাই প্রমাণিত হয় যে, মহাপ্রলয় তথা কিয়ামতের মহাসংকটের সময় ও শুধু পুরুষরাই নুরের অধিকারী হবে না, বরং পুণ্যবর্তী নারীরাও নুরের অধিকারী হবে। এটা যে নারী জাতির ফজিলত ও মর্যাদার প্রমাণ বহন করে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ জাতীয় ফজিলত শুধু কুরআনেই নয়; বরং বিভিন্ন হাদীসেও পাওয়া যায়। হযরত ইবনে উমর রা. রাসুল সা.-এর পবিত্র বাণী বর্ননা করেন, ‘এ বিশ্ব ভূমণ্ডল পুরোটাই ভোগ সম্ভার ও আনন্দ উল্লাসের সামগ্রী। তন্মধ্যে সর্বোত্তম সামগ্রী হল নেক ও সৎ কর্মপরায়ণ নারী।

মা হিসেবে নারীর ফজিলত পৃথিবীর কোনো ধর্ম ও মতবাদে নারীকে মা হিসেবে এত মর্যাদা ও ইজ্জত দেওয়া হয়নি, যা দেওয়া হয়েছে ইসলামেরএখানে কুরআন-হাদীস হতে কিছু দলীল পেশ করা হচ্ছে। আল্লাহ পাক কুরআনে ইরশাদ করেন “আমি মানুষকে মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহার কারর তাকীদ দিয়েছি। (মায়ের জন্য বেশি করেছি। কারণ, মা তাকে খুব কষ্টে গর্ভ ধারণ করেছে, প্রসব করেছে, আরো কত দুঃখ-কষ্ট সে সহ্য করে।’ (সূরা: আহকাফ, আয়াত ১৫)। হযরত আনাস রা. রাসুল সা.-এর ইরশাদ বর্ণনা করেন, ‘জান্নাত মায়ের পায়ের নীচে।’ (সুনানে নাসাঈ- ৩১০৪)

বোন হিসেবে নারীর মর্যাদা

ইসলাম যেমনিভাবে মা হিসেবে নারীর মর্যাদা দিয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে বোন

হিসেবেও নারীর মর্যাদা দিয়েছে। এমন কি পিতার সম্পত্তিতেও তার অংশ নির্ধারণ করেছে। হযরত আবু সাঈদ রী . নবী সা.-এ ইরশাদ বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে তিনটি মেয়ে বা বোন কিংবা দুটি মেয়ে রয়েছে অতপর সে তাদের সুন্দরভাবে লালন-পালন করেছে এবং তাদের দেখবেন ব্যাপারে আললাহকে ভয় করেছে, আললাহ তায়ালা এর বিনিময়ে তাকে জান্নাত দান করবেন। (তিরমিযী

স্ত্রী হিসেবে নারীর মর্যাদা ইসলাম পূর্ব বর্বর যুগে সমাজে স্ত্রী

হিসেবে নারীর কোনো সম্মান ছিল না। দাস-দাসীদের মতোই স্ত্রীদের অবস্ ল্যায়ন করা হত। সমাজে পিশাচ প্রকৃতির ক্ষমতাধর পাষণ্ড সরদার ও মোড়লরা আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী নিজ নিজ আস্তানায় একাধিক স্ত্রী, রক্ষিতা বন্দীদশায় আবদ্ধ করে রাখত। উপরন্তু স্বামীদের বিকৃত লালসা পূরণ করতে হত স্ত্রীদের। সামান্য অপরাধে অমান বিক জুলুম-নির্যাতন চালানো হত। একান্ত আসহায় ও আশ্রয়হীন ধর্ষিতা কিশোরীর মতো চাপা কান্না ও নিভৃতে অশ্রু ঝরানো ছাড়া অভাগিনী স্ত্রীদের জন্য কোনো উপায় ছিল না। অথচ আল্লাহ তায়ালা তাদের শাস্তির আধার, সান্ত্বনার উৎস, প্রেম ভালোবাসার অর্ধাঙ্গিনী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। নারীদেরকে বানিয়েছেন কল্যাণী, মহিয়সী, ফজিলত মর্যাদার অধিকারি ণী। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, *স্ত্রীরা তোমাদের পরিচ্ছদ আর তোমরা তাদের পোশাক। (সূরা বাকারা, আয়াত-১৮৭)। যদি जो হিসেবে নারীর কোনো মূল্য ও মর্যাদা না থাকত তাহলে মহাজ্ঞানী আল্লাহ পাক স্ত্রীদেরকে আশরাফুল মাখলুকাতের অন্যতম স্বামীদের পরিচ্ছদ বানাতেন না। তখন তারা অবজ্ঞার পাত্রীই গণ্য হত। ইসলাম নারীকে পুরুষের ঈমানের পরিপূরক হিসেবে ঘোষণা দিয়ে নারীর যথাযথ মর্যাদা দিয়েছে। একজন স্ত্রী দ্বারাই পুরুষ বৈধ পন্থায় তার যৌন ক্ষুধা মিটাতে পারে। তাই স্বামীর জন্য স্ত্রীই হচ্ছে চারিত্রিক নিরাপত্তার গ্যারান্টি। এটা হল স্বামীর জন্য দুনিয়াবী উপহার স্বরূপ। শুধু কি তাই। অধিকন্তু দ্বীনদার নারীকে বিবাহ করার মাধ্যমে একজন পুরুষ আখিরাতের সাফল্যও অর্জন করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *