এই দুঃসময় কেটে যাবে একদিন

একটা চাপা কষ্টের ভেতর দিয়ে আমরা সময় কাটাচ্ছি। গত ১৫ই মার্চ শুক্রবার জুমার নামায চলাকালীন সময়ে নিউজল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আন নূর মসজিদ এবং লিনউড ইসলামিক সেন্টারে ইতিহাসের জঘন্যতম সন্ত্রাসী হামলা সংঘটিত হয়। এতে প্রায় পঞ্চাশজনের মতো মুসলমান শাহাদাত বরণ করেন এবং কমপক্ষে পঞ্চাশজনের মতো গুরুতরভাবে আহত হন। নব্য নাৎসীবাদের ঘোর সমর্থক এবং কমিউনিজমের বিপ্লবী মতবাদে বিশ্বাসী অস্ট্রেলিয়ান ক্রসেডজঙ্গী ব্রেন্টন ট্যারেন্ট ইতিহাসের বর্বরতম এই সন্ত্রাসী হামলা ঘটায়। হিংস্র হায়েনার মতো এই জঙ্গি হামলা সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করে অমানবিকতার শেষ দেখিয়ে ছাড়ে সে। নৃশংস এই সন্ত্রাসী হামলায় শুধু বিশ্বের মুসলিম জনগোষ্ঠী নয়; মানবতাবাদী সকলই মানুষই বেদনায় মুষড়ে পড়েছে।

 

বাহ্যিকভাবে দেখলে এটা একজন ব্যক্তির একক হামলা। কিন্তু বাস্তবে এটা এত ছোট করে দেখবার জিনিস নয়। দিনের পর দিন ইঙ্গ-মার্কিন আর ইহুদি চক্র, তাদের দোসর ও দালালগোষ্ঠী লাগাতারভাবে ইসলাম, মুসলমান আর ইসলামের পবিত্রতম বিধান জিহাদকে বিকৃত করে মিথ্যা ও বিভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে যাচ্ছে। এইসব দোসর ও দালালরা পরিস্থিতি এতটাই নিজেদের অনুকূল করে নিয়েছে যে, কোথাও যদি অতর্কিতে কোনো হামলা হয় তাহলে সেখানে হামলাকারীর পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে সেই হামলার অর্থ ও মূল্যায়ন একেকভাবে করা হয়। হামলাকারী যদি হয় কোনো পাশ্চাত্য দেশের খৃষ্টান নাগরিক তাহলে তাকে বানানো হয় একজন মানসিক বিকারগ্রস্থ লোক। হামলাকারী যদি হয় মার্কিন বা ইহুদি কোনো সৈন্য তাহলে তাকে বানানো হয় সভ্যতার স্বপক্ষে লড়াইকারী একজন বীর সৈনিক। আর যদি ওই হামলাকারী হয় কোনো মুসলিম নাগরিক তাহলে তাকে বানানো হয় একজন জঙ্গি। সুতরাং এইসব মুসলমানকে ঠেকাতে হবে। প্রয়োজনে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে হবে।

 

হলুদ সাংবাদিকতার এই বিভ্রান্ত প্রচারণায় একদিকে যেমন নামসর্বস্ব মুসলমানদের অন্তরে জিহাদের প্রতি একটা অনীহা ও নেতিবাচক মনোভাব জন্ম নিয়েছে, অপরদিকে তা ইউরোপ আমেরিকাসহ পাশ্চাত্যের দেশসমূহে দুর্ধর্ষ ও ভয়ানক ক্রসেডার জঙ্গির জন্ম দিয়েছে। সেইসব জঙ্গিরা আজ প্রকাশ্যে মুসলমানদের পাখির মতো গুলি করে মারতে একটুও দ্বিধাবোধ করছে না। আন্তর্জাতিক কুফুরি গোষ্ঠীর অপপ্রচারে হীনমন্যু হয়ে সামরিক অঙ্গনে যেই না মুসলামনরা একটু গাফিলতি দেখিয়েছে ওমনি শুরু হয়েছে ক্রুসেডার জঙ্গিদের বীভৎস পাশবিক বর্বরতা।

 

আন্তর্জাতিক এই জঙ্গিবাদ, ক্রসেডীয় এই বর্বরতা মুসলমানদেরকে পৃথিবীতে থেকে চিরতের নিশ্চিন্ত করে দিতে চায়। কিন্তু ওরা জানে না, রক্ত বিলিয়ে দিয়ে মুসলমান কখনো দুর্বল হয় না, রক্ত দিয়ে মুসলমানরা আরো সবল হয়ে ওঠে। ইসলাম আরো সজীব ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা আজ যেভাবে নিপীড়িত ও নির্যাতিত হয়ে চলছে, এতে ভয় পাবার কিছু নেই। রাতের একদম শেষ প্রহরে প্রকৃতিটা খুব অন্ধকারাচ্ছ হয়ে পড়ে। কিন্তু এই অন্ধকারটা খুবই ক্ষণস্থায়ী। কারণ এরপরেই ভোরের সোনালী সূর্যটা আলোর জোয়ার নিয়ে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। পৃথিবীর যেসব জায়গায় মুসলমানরা আজ সবচেয়ে বেশি নিগৃহীত হচ্ছে ওইসব জায়গাতে অচিরেই মুসলানদের বিজয়ের মিনার নির্মিত হবে ইনশাআল্লাহ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *