বদদীনের সর্বগ্রাসী আগ্রাসন রোধে চাই দ্বীনের সর্বত্র বিচরণ

মাওলানা আবু সাঈদ

সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা যেকোনো চিন্তাশীল ধার্মিক লোকের বিবেককে নাড়া দেবে। বিষয়গুলো নিয়ে ভাবলে দীনের প্রতি দরদ আছে এমন প্রত্যেক মানুষের কপালে চিন্তার রেখা দেখা দেবে। আমি সেগুলোর মধ্য থেকে কয়েকটির কথা নিচে উল্লেখ করছি।

১। গত মাস কয়েক আগে সমঅধিকারের প্রবক্তা এক মেয়ে বিয়ে অনুষ্ঠানের হাজার বছরের সুপ্রতিষ্ঠিত সামাজিক প্রথা ভেঙ্গে, শালীনতার প্রাচীর চৌচির করে কনে সেজে বরকে তার বাড়ি থেকে উঠিয়ে এনেছে। যে ঘটনাটি তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছি-

২। গত বছরের বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে ৩৭ হাজার তরুণী অংশগ্রহণের আবেদন করেছিল। ৩। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছে ডাকসু।

৪। ক্যাসিনো নামক মদ, জুয়া ও নারীদেহ ভোগের নিরাপদ আস্তানার বিস্ময়কর তথ্যের মহাবিস্ফোরণ ঘটেছে গত বছরের শেষার্ধে। পত্র পত্রিকার সংবাদ অনুসারে শুধু ঢাকাতেই ৬০টির মতো ক্যাসিনো আছে। এ ব্যবসা দেশের প্রায় সব জেলাতেই কম বেশি চলছে।

৫। এরও আগে এক কথিত প্রগতিশীল তরুণী ভালোবাসা দিবসে প্রকাশ্যে প্রেমিককে চুমু খাওয়ার ঘোষণা করেছি ল। এজাতীয় ঘটনাগুলো মিডিয়াতে ব্যাপক হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিল। আলেম-উলামা থেকে শুরু করে সাধারণ দীনদার মানুষও প্রবন্ধ-নিবন্ধ, সেমিন র-সিম্পোজিয়াম, বক্তৃতা-বিবৃতি, তির্যক বাক্য বিনিময়ের মাধ্যমে এ জাতীয় ঘৃণিত বিষয়ের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আমি স্বীকার করি এর মাধ্যমে রাসুল

সা.- এর হাদিসে বর্ণিত نهي عن المنكر তথা অন্যায় কাজে বাধা প্রদান করার তিন স্তরের কোনো এক স্তরের উপর আমল বদদীনের অর্থনৈতিক রূপ করা হচ্ছে। নিঃসন্দেহে এর মাধ্যমে আমরা নিজেদের ঈমানদারীর পরিচয় দিচ্ছি। কারণ রাসুলে কারীম সা. হাদিস শরীফে ইরশাদ করেন, তোমাদের কেউ যদি কোনো অন্যায় কাজ হতে দেখে, পারলে সে যেন তা হাত দ্বারা প্রতিহত করে, যদি তা করতে সক্ষম না হয়, তাহলে যেন যবান দ্বারা তা প্রতিহত করে, তাও যদি সম্ভব না হয়, তাহলে যেন অন্তত ম থেকে ঐ কাজটিকে ঘৃণা করে। এটি

হল ঈমানের সর্বনিম্ন স্তর। মুনকার তথা বদদ্বীনের আগ্রাসনের

ধারাবাহিকতায় এসব ঘটনা কিন্তু এই প্রথম নয় এবং এ কয়েকটিতেই কেবল সীমাবদ্ধ নয়। এগুলো কেবলমাত্র কয়েকটি দৃষ্টান্ত। বদদীনের বহুবিধ আগ্রাসনের কিছু নমুনা।

অনেক পূর্বে বাংলাদেশে বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন ও তার দোসরেরা নারীর স্বাধীনতা ও সমঅ ধিকারের নামে এসকল বেহায়াপনার বীজ রোপন করেছিল বর্তমানে যেগুলো বাস্তবে রূপদানের প্রচেষ্টায় রয়েছে দেশে বিদ্যমান থাকা তারই ভাবশিষ্য এবং প্রেতাত্মারা। এ তো গেল চরিত্র ও নৈতিকতার বিরূদ্ধে বদদীনের নগ্ন আগ্রাসন।

বদদীনের আকীদাগত আগ্রাসন, রাজনৈতিক আগ্রাসন, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, অর্থনৈতিক আগ্রাসন, চিরদিন বন্ধ থাকবে? শিক্ষাগত আগ্রাসন শুরু হয়েছে আরো আগে।

আমরা আকীদাগত আগ্রাসনের বহিঃপ্রকাশ দেখতে পাই শাহবাগীয় অনুঙ্খল যুবক যুবতীদের আল্লাহ, রাসুল, দীন ও দীনের বিভিন্ন হুকুম আহকাম নিয়ে বিদ্রুপ, ব্যাঙ্গাত্মক উক্তি

ও ব্লগিংয়ের মাধ্যমে মূর্তি ও ভাস্কর্যপ্রীতি, থার্টিফার্স্ট নাইট, ভ্যালেন্টাইন ডে, এপ্রিল ফুল ডে ইত্যাদি দিবস ও বিজাতীয় প্রথা ও অনুষ্ঠানাদির মাধ্যমে সাংস্কৃতিক

আগ্রাসনের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

সেকুলার (ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, সরকার ও রাষ্ট্রের কী পয়েন্টগুলোতে অমুসলিম ও নামধারী মুসলমানদেরকে প্রাধান্য দিয়ে নিয়োগ প্রদান, কোনো কোনো মন্ত্রী ও এমপির ইসলামবিরোধী বক্তৃতা বিবৃতি, ইত্যাদি হল বদদীনের রাজনৈতিক বহিঃপ্রকাশ

সুদ নির্ভর অর্থব্যবস্থা, সুদী মহাজনকে আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রদান, পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা, সমাজতন্ত্র ইত্যাদি হল ফেব্রুয়ারী ২০ ইং

সরকারি পাঠ্য বইয়ে অমুসলিম ও ইসলাম বিদ্বেষীদের গল্প-কবিতার ছাড়াছড়ি, ইসলামী শিক্ষা বিলুপ্তির ষড়যন্ত্র ও চেষ্টা, ইসলামী শিক্ষাকে জাতীয় শিক্ষা থেকে পৃথকীকরণ, ওষুধ। ইসলামী শিক্ষার মারকাযগুলোকে হুমকি, শিক্ষায় শিক্ষিতদেরকে ি পশ্চাদপদ ইত্যাদি হীন শব্দে হেয় করার অপচেষ্টা, এসবকিছুই হল শিক্ষার ক্ষেত্রে বদনীে নর আগ্রাসন।

এভাবে দীনের বিরুদ্ধে বদদীনের বহুরূপী ও বহুমূখী আগ্রাসন চলছে বদদীন গোটা উম্মতকে গ্রাস করে নিচ্ছে। সর্বগ্রাসীরূপে আবির্ভূত হয়েছে।

এই যে, একটি তরুণী প্রকাশ্যে চুমু খাওয়ার ঘোষনা করল, আরেক তরুণী সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার নামে বরকে গিয়ে তুলে আনল, তারও আগে ব্লগার কর্তৃক বিশ্রী ভাষায় আল্লাহ, রাসূল, নামায ও ধর্মীয় বিষয়গুলোকে কটাক্ষ ও বিদ্রূপ করা হল, ইসলামী শিক্ষা, ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধানসমূহ মন্ত্রীর নির্লজ্জ আক্রমনের শিকার হল, এগুলোই কী আসল সমস্যা? এগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, র‍্যালি, বক্তৃতা-বিবৃতি দিলেই কী মূল সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে? গর্ভের ভিতর ইঁদুর রেখে গর্ত বন্ধ করে দিলেই কী গর্ত

তসলিমা নাসরিন তো অনেক আগেই এদেশ থেকে নির্বাসিত হয়েছে, কই তার মিশন তো থেমে যায়নি। তারপরও কেন হাজারো তাসলিমা নাসরিন জন্ম নিচ্ছে?

আমরা আসলে তখনো সমস্যার গোড়ায় যেতে চাই না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কিছু প্রতিক্রিয়া দেখানোর মাঝেই নিজেদের দায়িত্বকে সীমাবদ্ধ মনে করি। এটুকু দায়িত্ব পালন করেই দায়মুক্তির তৃপ্তির ঢেকুর তুলি। অথচ এটা বুঝতে আমরা বরাবরই ব্যর্থ হই যে, এগুলো মূল সমস্যা কিংবা রোগ নয়, এগুলো তো কেবল রোগের আলামত (symp tom) বা উপসর্গ। যা মূল রোগের প্রতিক্রিয়া স্বরূপ দেখা দিয়েছে।

চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে যে, জ্বর কোন রোগ নয়, বরং রোগের উপসর্গ। অতএব দ্বারের চিকিৎসা না করে বরং যে কারণে জ্বর হয়েছে, তা উদ্ঘাটন পূর্বক তার সুচিকিৎসা করা অধিকতর ডাকিন গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী। ভৃত্বাবহঃরড়হ

রং যেব নবঃঃবৎ হযবহ পর্ব রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা করার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করা অধিক শ্রেয়। যে ওষুধ রোগকে সমূলে অপসারণ করে সে ওষুধই ফলপ্রসু

আজকে আমরা বদদীনের মোকাবালা করছি দিফায়ী পন্থায়। দিফায়ী পন্থা হল কোনো অন্যায় সংঘটিত হওয়ার পর তার প্রতিকার বা বন্ধের চেষ্টা করা। এটা আসলে বদদীন প্রতিরোধের প্রথম পদক্ষেপ নয়। এর দ্বারা কখনো কাঙ্খিত ফলাফল অর্জন হয় না। কারণ প্রত্যেকটি ক্রিয়ারই একটি প্রতিক্রিয়া আছে। ভালো কিংবা মন্দ প্রত্যেকটি কাজের প্রভাব সমস ময়িক কিংবা পরবর্তীদের ওপর পড়ে। বদদীনের প্রকাশ যেভাবেই ঘটুক না কেন, তার আত্মপ্রকাশটাই সমসাময়িক কিংবা পরবর্তীদের জন্য দাওয়াত। কেননা কথায় আছে যে,

الإنسان حريص فيما منع মানুষ নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি বেশি আসক্ত। অবচেতন মনে যে আওয়াজই পৌঁছে, ভালো মন্দ যাচাই ছাড়াই অনেক সময় তা মনে বসে যায়। কবি খুব সুন্দর বলেছেন, اتاني هواها قبل أن أعرف الهوى

فصادف قلبا خاليا فتمكنا চেনার পূর্বেই প্রবৃত্তি মোর কাছে এসেছে, তন্য হৃদয় পেয়ে তথায় আসন পেতেছে

তাই তো দেখি, তসলিমা নাসরিন ধর্মদ্রোহীতার ও বেশ্যাপনার চরম শাস্তি পাওয়ার পরও তার এদেশীয় ভাবশি যাদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

অতএব বদদীনের বিরুদ্ধে কেবল যেকোনো দিফায়ী পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, ইকদামী পদক্ষেপও গ্রহণ করতে হবে। আর এটাই বদদীনকে রোখার প্রথম ও ফলপ্রসূ পদক্ষেপ।

যেমন- ইসলামে যিনা প্রতিরোধের জন্য ইকদামী পদক্ষেপ হিসেবে পর্দার বিধান প্রদান, চোখের হেফাজতের নির্দেশের পাশাপাশি বেগানা নারী পুরুষের নির্জনে অবস্থান, অবৈধ যোগ যোগ রক্ষাকে হারাম করেছে আর এক্ষেত্রে দিফারী পদক্ষেপ হিসেবে যিনার শাস্তির ব্যবস্থা করেছে। সম্পদের চুরি রোধের জন্য ইকদামী পদক্ষেপ হিসেবে মালিকের ওপর সংরক্ষণ ব্যবস্থাপাকে জোরদার করার নিয়েছে আর দিফায়ী পদক্ষেপ হিসেবে চুরির শাস্তির ব্যবস্থা করেছে

বদদীন প্রতিরোধে আমাদের ইকদামী পদক্ষেপ কী হতে পারে? আমি আমার এ লেখার শিরোনাম

করেছি, “বদদীনের সর্বগ্রাসী আগ্রাসন রোধে চাই দীনের সর্বত্রগামিতা শিরোনামটি গ্রহণ করেছি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐকতান নামক কবিতার দু’টি চরণ থেকে। বর্তমানে ঘটমান এসব অ যুত কর্মকাণ্ড দেখার পর এর কারণ চিন্তা করতে গিয়ে হঠাৎ করেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐকতান কবিতার চরণ দু’টি আমার মনে পড়ে গেল। কবি বলেন

আমার কবিতা জানি আমি, গেলেও বিচিত্র পথে হয় নাই সর্বত্রগামী এ পংক্তি দু’টিতে মূলতঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে, নিজের কবিজীবনের মূল্যায়ন করতে গিয়ে, নিজের ব্যর্থতার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন যে, তার কবিতা বৈচিত্র্যপূর্ণ হলেও সর্বগ্রগামী হয়নি। কেননা তার কবিতায় শুধুমাত্র মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণির আলোচনাই উঠে এসেছে কামার-কুমার, কৃষক, শ্রমিক, জেলেদের সমাজের নিম্নবিত্ত বহু শ্রেণি পেশার মানুষের কথা তার কবিতায় তেমন- ভাবে উঠে আসেনি। তাই জীবনে অনেক প্রাপ্তির পরেও তাঁর মনে অপূর্ণতার বাঘা ছিল। সর্বত্রগামী না। হওয়ায় মনে ছিল আক্ষেপ

এরই সূত্র ধরে, বদদীন প্রতিরোধের ক্ষেত্রে ইকদামী পদক্ষেপের ব্যপারে বলতে চাই যে, বদদীন যেহেতু সর্বগ্রাসী, তাই তার প্রতিরোধও হতে হবে সর্বব্যাপী। দীনের দাওয়াত হতে হবে সর্বত্রগামী। ইসলামিস্ট ও দাঈরা শুধুমাত্র এক-দু জায়গায় নিজেদেরকে আবদ্ধ রাখলে হবে না। বরং দ্বীনের আলোক মশাল নিয়ে রাষ্ট্রের প্রতিটি সেক্টরে প্রত্যেক শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে হবে। সকলক্ষেত্রে দীনের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। মহান আল্লাহ কারীমে ইরশাদ করেন কুরআনে

ادخلوا في السلم كافة তোমরা পরিপূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ বাকী

জীবনের সকল অঙ্গনকে নিয়েই মানব জীবনের পরিপূর্ণরূপ পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, চিকিৎসা, অর্থনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতি এসবকিছুই মানব জীবনের অত্যাবশ্যকীয় এগুলোর

ফেব্রুয়ারী ২০ ইং

ইসলামাইজেশনের মাধ্যমেই কেবল পরিপূর্ণ ইসলামে প্রবেশ করা হবে, অন্যথায় নয়।

اليوم أكملت لکم دینکم و اتممت عليكم نعمتی و رضيت لكم الإسلام

دينا আমি আজ তোমাদের দীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম, এ আয়াতের দাবিও শব্দ বাদ দিয়ে পুনরায় তার নামকরণ

এটাই।

আজ আমরা যারা দীনদার শ্রেণী আছি, বিশেষ করে আলেম-ওলামা, আমরা আমাদের কর্মপরিধিকে ধুমাত্র মসজিদ মাদরাসা ও খানকাহের মাঝে সীমাবদ্ধ করে নিয়েছি। আমরা যেন রাসুলের সেই আশঙ্কাকেই বাস্তবায়ন করে চলেছি, যা তিনি বলেছিলেন, jussy

، الحية إلى جحرها ইসলাম মদীনায় গুটিয়ে যাবে যেভাবে সাপ তার গর্তে নিজেকে গুটিয়ে নেয়। আচ্ছা, মানবজীবন কি শুধু এই কয়েকটি অঙ্গনেই সীমাবদ্ধ? দুনিয়ার সকল মানুষ কি এই কয়েকটি কেন্দ্রের সাথেই সম্পৃক্ত? এসকল সাথে সম্পৃক্ত লোকের কেন্দ্রের সংখ্যা পার্সেন্টিজে কত হবে? বেশি থেকে বেশি ১০%। বাকী ৯০% মানুষই এগুলোর আওতার বাইরে। তাছাড়া এই কয়েকটি কেন্দ্র থেকে গোটা দীনের কয়টি শাখার বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে? শুধুমাত্র ইবাদত আর আকায়েদের কিছু অংশ অথচ আকায়েদ, ইবাদাত, মুআমালাত, মুআশারাত আখলাক এসব কিছুর সমন্বয়েই হল ধীন। মুজাহিদে মিল্লাত আল্লামা আতহার আলী রহ. বলেন, কতগুলো এবাদতের সমষ্টির নামই ইসলাম নহে। বরং ইসলাম বলিতে ইসলামী জীবনব্যবস্থার প্রত্যেকটি নিককে বুঝাইবে। এই বাপক অর্থে ইসলামকে বিশ্বের সম্মুখে উপস্থাপন করা এবং ইহাকে সমুন্নত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা মুসলমানদের জ অবশ্য কর্তব্য ও শ্রেষ্ঠ জেহাদ বটে। অতএব ইসলাম হল পূর্ণাঙ্গ জীবনের

পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা যাকে আজ আমরা একটি শাখা কেবল ইবাদতের মাঝেই সীমাবদ্ধ করে নিয়েছি। আর ক্ষেত্রগুলোতে ইসলামের অনুপস্থিতির সুযোগে বদদীন হেঁকে

বসেছে। এ হল দীনের ধারক বাহক ওলামায়ে কেরামের অবস্থা। পক্ষান্তরে দুনিয়ার ধারক বাহক যারা তাদের চিন্তা দেখুন, আওয়ামী লী

বাংলাদেশের একটি প্রাচীনতম রাজনৈ

ঠিত দল। তারা তাদের দলীয় চিন্তাধ তাকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করার জন্য সর্বপ্রথম তার প্রাচীন নাম মুসলিম লীগ পরিবর্তন করে করল আওয়ামী মুসলিম লীগ। অতঃপর মুসলিমদের পাশাপাপি অন্যান্য জাতি গোষ্ঠীকে দলের সাথে ভিড়ানোর জন্য মুসলিম করা হল আওয়ামীলীগ। সকল বয়সের সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করার জন্য মূল ে যুবদী, উমাদীগ, ड, শ্রমিকলীগ, বামহারা প্রজনুলীয় ইত্যাদি নামে অঙ্গসংগঠনের করা হল। তাদের রাজনৈতিও চিন্তাধারাকে সর্ববানী করার জন্য মূল দলের মাঝে বিভিন্ন উপনসের সৃষ্টি করেছে

ব্যবসার ক্ষেত্রে যদি বলি, বর্তমান বিশ্বে ব্যবসায় সফল রাষ্ট্রের তারকার শীর্ষে রয়েছে গণচীন। আন্তরিকভাবে ব্যবসায় তাদের এ সাফল্যের অন্যতম কারণ হল পরিত্র ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রসমূহের প্রতিটি ঘরে তারা তাদের প্রোডা সত্য অকারে পৌঁছে দিতে পেরেছে।

এই দৃষ্টান্তগুলো আমি পেশ করেছি শুধুমাত্র কোনোকিছুকে করার উপকারিতা বুঝানোর জন্য। অন্যথায় জাগতিত অন্যান্য বিষয়ের মতো দীনের কোনো বিষয়ে তো সামান্যতম কাটছাট কার সুযোগ নেই। তবে দীনের পূর্ণাঙ্গ শকে যদি আমরা জীবনের প্রতিটি অঙ্গনে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দিতে পারি, নীে নর পথ অবলম্বন ছাড়া কি যাবতীয় প্রয়োজন মেটানোর পানি সঠিক বিকল্প যদি জগতবাসীর সামে তুলে ধরতে পারি, সর্বোপরি দীনকে যদি সর্বত্রগামী করতে পারি তাহলে এটিই হবে বাতিলকে প্রতিরোধ করার ইকদামী পদক্ষেপ। এটাই হবে বদনীয় নর সফল প্রতিরোধ

কিন্তু হায়। আজকে আমরা কোথায়? তাই কবির ভাষায় আমারও আজ আক্ষেপ করে বলতে ইচ্ছে হচ্ছে, আমাদের ইসলাম আমরা জানি,

হলেও সর্বজনীন করি নাই সর্বপ্রগামী। আল্লাহ আমাদেরকে সকল সংকীর্ণতা ও সংকোচন থেকে হেফাজত করে দীনকে পূর্ণাঙ্গরূপে বুঝার ও বাস্তবায়ে নর তাওফীক দান করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *