বিজেপির মূল সংগঠনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন নরেন্দ্র মোদি

পরপর দু’ মেয়াদে ভারতে কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেি প)। প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন গুজরাট রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রথমবার ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর মোদি এমন এক সিদ্ধান্ত নিলেন, যাতে সারা ভারতে হৈচৈ পড়ে গেল। তিনি বড় অঙ্কের নোট বাতিল ঘোষণা করলেন। তারপর নিলেন গোহত্যা বন্ধের সিদ্ধান্ত। শেষ দিকে নিয়েছিলেন এনআরসি বা নাগরিকপঞ্জী তৈরির সিদ্ধান্ত। কিন্তু তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। দ্বিতীয় মেয়াদে ২০১৯ সালে ক্ষমতায় এসেই তা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়েছেন। তারপর কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা সম্বলিত ধারা বাতিল করেন সংবিধান থেকে। একই সাথে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নামে একটি বিল পাস হয়েছে ভারতীয় পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে। এসবের পেছনে রয়েছে বিজেপির মূল সংগঠন আরএসএস-এর ভূমিকা। নরেন্দ্র মোদি এই সংগঠনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ভারতের উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)। এই সংগঠন থেকেই জন্ম হয়েছে বিজেপির। তবে আরএসএস-এর অধীনে আছে আরো অনেক সংগঠন। আলাদা আলাদা ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করে এসব সংগঠন। এদের সামগ্রিকভাবে বলা হয় সংঘ পরিবার। সংঘ পরিবারের ছাতার নিচে আছে অনেকগুলো সংগঠন। এগুলো স্বাধীনতা কৃষক, শ্রমিক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করছে। এ ছাড়া শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও ব্রুয়ারী ‘২০ ইং

ছাত্রসংগঠনও আছে আরএসএস-এর। এসব অঙ্গ-সংগঠনের মধ্যে রয়েছে, স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ (এসজিএম), ভারতীয় মজদুর সংঘ (বিএমএস), ভারতীয় কিষান সংঘ (বিকে এস), লঘু উদ্যোগ ভারতী (এলইউবি), অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি), শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাস (এসএসইউএন), গ্রাহক পঞ্চায়েত (জিপি) প্রভৃতি।

কট্টরপন্থী হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস-এর জন্ম ব্রিটিশ শাসনের অবসান হওয়ার আগেই । ১৯২৫ সালে নাগপুরে প্রতিষ্ঠিত হয় আরএ সএস। কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা। মূলত হিন্দু সংস্কৃতি ও গোঁড়া ধর্মীয় জাতীয়তাবাদই এর মূল ভিত্তি। তখন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে থাকায় তেমন সাড়াও ফেলতে পারেনি এই সংগঠন।

প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ হেডগেওয়ারের পরে আরএ সএস-এর পরিচালক হন এম এস গোলওয়া লকর। স্বাধীনতা আন্দোলন সম্পর্কে আরএ সএস-এর দৃষ্টিভঙ্গি প্রসঙ্গে গোলওয়ালকর বলেছিলেন, ‘ব্রিটিশ বিরোধিতাকে ভাবা হচ্ছে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের সমার্থক। এই প্রতিক্রিয়াশীল দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের সমগ্র স্বাধীনতা আন্দোলন, তার নেতৃবর্গ ও সাধারণ মানুষের ওপর বিনাশকারী প্রভাব ফেলেছিল। অর্থাৎ আরএসএস-এর কাছে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ছিল একটি ‘প্রতিক্রিয়াশীল আন্দোলন। ফলে এই দৃষ্টিভ ঙ্গি নিয়ে চলা আরএসএস যে সর্বদাই জাতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে রাখে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। বাস্তবে স্বাধীনতা আন্দোলনে সশস্ত্র বা শান্তিপূর্ণ কোনো সংগ্রামেই আরএসএস অংশগ্রহণ করেনি। সংঘ পরিবারের দেশ সেবকরা ভারত বিভক্তির জন্য একতরফা ভাবে মুসলিম লিগকেই দায়ী করে। ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় মুসলিম লিগের প্রতিষ্ঠা হয়। ৩৪ বছর পর ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে লিখের ওয়ার্কিং কমিটির মিটিংয়েই তারা প্রথম পৃথক দেশের দাবি তোলে। কিন্তু তার অনেক আগে ১৯২৩ সালেই হিন্দু মহাসভার নেতা বিডি সাভারকার। ধর্মভিত্তিক দেশের ধারণা উপস্থিত করেছিলেন। তিনি ‘হিন্দুত্ব’ নামক গ্রন্থে ভারতবর্ষে হিন্দু এবং মুসলিম দুটি পৃথক জাতির তত্ত্ব পেশ। করেন। ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার তাই বলেছেন, ‘সাম্প্রদায়িক পথে ভারত বিভাগের ধারণাটির উদ্ভাবনের জন্য বিপুল পরিমাণে দায়ী হল হিন্দু মহাসভা তিনি আরো বলেছেন, ‘মুসলিম,

ব্রিটিশ বিরোধী অসহযোগ আন্দোলন গোটা দেশে ১৯২১-২২ সালে তীব্র রূপে ফেটে পড়েছিল। ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায়গত পার্থক্য গৌণ করে হাজার হাজার মানুষ এক হয়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন অবিভক্ত বাংলাতেও এই আন্দোলন প্রবলভাবে আছড়ে পড়েছিল। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, সুভাষচন্দ্র বসু প্রমুখ নেতাসহ হাজার হাজার সত্যাগ্রহীকে ব্রিটিশ পুলিশ গ্রেফতার করে। আর এই মধ্যে আরএসএস প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ হেডগেওয়ার দেখতে পেলেন ‘অশুভ শক্তির জাগরণ’। তাঁর কথায়, ‘মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের ফলে দেশে উৎসাহ (জাতীয়তাবাদের জন্য) ক্রমে শীতল হয়ে যাচ্ছিল এবং এই আন্দোলন স শক্তিগুলি সমাজজীবনে বিপজ্জনকভাবে মাথা চাড়া দিচ্ছিল। অসহযোগের দুগ্ধ পান করে বেড়ে ওঠা যবন-সর্প তার বিষাক্ত নিঃশ্বাস নিয়ে দেশে দাঙ্গার প্ররোচনা দিচ্ছিল। এই ছিল অসহযোগ আন্দোলন সম্পর্কে হেডগেওয়ার-এর বিদ্বেষপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি। স্বাধীনতা আন্দোলনকে দেশের পক্ষে ক্ষতিকর এবং প্রতিক্রিয়াশীল ভাবার কারণেই বিজেপির পূর্বসুরি আরএ ফেব্রুয়ারী ২০ ইং

সক্রস দেশকে স্বাধীন করার কোনো কর্মসূচিতেই ছিল না। ১৯২৮ সালে সাইমন কমিশন বিরোধী আন্দোলন থেকে তারা নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখে। ১৯২৯ সালে ভগৎ সিং এবং বটুকেশ্বর দত্ত দিল্লি অ্যাসেম্বলিতে বোমা নিক্ষেপ করলেন, উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদে আলফ্রেড পার্কে (১৯৩১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি) পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হলেন বিপ্লবী নেতা চন্দ্রশেখর আজাদ, ১৯৩১ সালে ২৩ মার্চ ভগৎ সিং, শুকদেব, রাজগুরুকে ফাঁসি দিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ব্রিটিে শর বিরুদ্ধে গোটা দেশ যখন উত্তাল, সে সময় আরএসএস তার শরিক হয়নি ১৯৩০ সালে কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিং-এ বিনয়-বাদল-দীনেশ ঐতিহাসিক অলিন্দ যুদ্ধ, ১৯৩০-৩২ সালে চট্টগ্রামে মাস্টারদা সূর্য সেনের লড়াই, প্রীতিলতার নিহত হওয়া- কোনো ক্ষেত্রেই আরএসএস সমর্থন করেনি। ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলন, ১৯৪৫ সালে আজাদ হিন্দ ফৌজের অফিসারদের বিচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ১৯৪৬ সালে নৌ-বিদ্রোহ, ওই বছরের ২৯ জুলাই দেশব্যাপী ধর্মঘট -এসবেও আরএ- সএস-এর নিষ্ক্রিয় ভূমিকা ইংরেজ

প্রভুদের খুশি করেছে। স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরোধিতা করে জনগণের কাছে চূড়ান্ত বিকৃত আরএ সএস ডাঃ হেডগেওয়ারের জেলে যাওয়ার কাহিনী পরিবেশন করে থাকে। এই কলঙ্ক ঢাকতে ধূর্ত আরএ- সএস প্রচার করে, ১৯৩০ সালে গান্ধী- সত্যাগ্রহের সময় জেলে গিয়েছিলেন। হেডগেওয়ার আরএসএস প্রকাশিত তাঁর এক জীবনী গ্রন্থে বলা হয়েছে ১৯৩০ সালে মহাত্মা গান্ধী আইন অমান্যের ডাক দিয়েছিলেন ডাক্তার সাহেব (ডাঃ হেডগেওয়ার) সব জায়গায় খবর পাঠালেন সংঘ এই সত্যাগ্রহে অংশ- গ্রহণ করবে হোক ব্যক্তিগতভাবে যারা অংশগ্রহণ করতে চাইবে তাদের বাধা দেওয়া হবে না। এর অর্থ সংঘের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এতে অংশগ্রহণ করতে পারবে না’।

তাহলে ডাঃ হেডগেওয়ার নিজে ব্রিটিশ কারাগারে গিয়েছিলেন কেন? এর উত্তর পাওয়া যাবে আরএসএস প্রকাশিত হেডগেওয়ারের জীবনী গ্রন্থেই। এতে বলা হয়েছে, “ডাক্তার সাহেবের এই প্রত্যয় ছিল জেলের ভিতর তিনি

স্বদেশপ্রেমী, অগ্রগামী, নামজাদা লোক পাবেন। তাঁদের সাথে তিনি নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন এবং সংঘের কাজে তাঁদের টেনে আনতে পারবেন। অর্থাৎ স্বাধীনতা আন্দোলনের সমর্থনে হেডগেওয়ার জেলে যাননি, তিনি জেলে গিয়েছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী দের যেভাবেই হোক স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে সরাতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকার

তার সাম্রাজ্যবাদী লক্ষ্য পূরণের জন্য যখন নতুন সশস্ত্র ব্যাটেলিয়ান তৈরির তখন সাভারকরের নেতৃত্বে হিন্দু মহাসভা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, এই প্রচেষ্টাকে সফল করতে একটা বড় সংখ্যক হিন্দু যুবকের নাম নথিভুক্ত করাতে হবে সেদিন হিন্দু মহাসভা ব্রিটিশের যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে সাহায্য করার জন্য দেশের নানা প্রান্তে সহায়ক কেন্দ্র খুলেছিল যাতে হিন্দু যুবকেরা সহজেই ব্রিটিশ সেনাবাহিনী তে যোগ দিতে পারে। এই বাহিনী কেই ব্রিটিশ সরকার পাঠিয়েছিল আজাদ হিন্দ ফৌজের সেনাদের হত্যা করতে। সাভারকর সেই কাজে ব্রিটিশদের পাশে ছিলেন। দেশপ্রেমের নামে কী নির্লজ্জ গোলামি। এই গোলাি মর পুরস্কারস্বরূপ ভাইসরয়ের জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিলে সাভারকরের পছন্দমতো লোক মনোনীত করা হয়। সে জন্য টেলিগ্রামে ভাইসরয়কে ধন্যবাদ দিলেন সাভারকর। টেলিগ্রাম টি ছিল এইরকম, ‘ইওর এক্সেলেন্সিজ অ্যানাউন্সমেন্ট ডিফেন্স কমিটি উইথ ইটস পারসোনেল ইজ ওয়েলকাম হিন্দু মহাসভা ভিউজ উইথ স্পেশাল স্যাটিসফেকশন অ্যাপয়েন্টমেন্ট অফ মেসার্স কালিকর অ্যান্ড জমনদাস মেহতা’ (বিনায়ক দামোদর সাভারকর হোয়্যাপ উইন্ড প্রোপাগাজা-এ এ বিন্দে, পঃ ৪৫১)। এমনই ছিল হিন্দু মহাসভার নেতা সাভারকারের সঙ্গে ব্রিটিশের সম্পর্ক। বাঁর স্বাধীনতা সংঘামীই বটে।

আরএসএস মনে করে, হিন্দু মাতৃভূমি গঠন করতে হবে এবং হাজার বছরের প্রাচীন হিন্দু সংস্কৃতিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ ছাড়া দেশপ্রেমের নামে ম জাতীয়তাবাদ প্রসারও আরএসএস-এর অন্যতম এজেন্ডা। নিজেদের নীতি ও ধ্যানধার না প্রতিষ্ঠিত করতে সহিংস পন্থা অবলম্বন করতে দ্বিধা নেই আরএ প্রধান সএস-এর। এ জন্য ১৯৪৭-পরবর্তী সময়ে মোট তিনবার জাতীয়ভাবে নিষিদ্ধ হয়েছে এই সংগঠন। ভারতের স্বাধীনতা লাভের কিছুদিন পরই মহাত্মা গান্ধীকে হত্যার ঘটনা ঘটে। ১৯৪৮ সালের সেই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছিল আরএসএস-এর বিরুদ্ধে। গান্ধীকে গুলি করে হত্যা করে। নাথুরাম বিনায়ক গডসে নামে আরএ সএস-এর এক সদস্য। ওই সময় প্রথমবারের মতো নিষিদ্ধ হয় সংগঠন- টি।

মহাত্মা গান্ধীকে হত্যার অভিযোগ থেকে পরবর্তী সময়ে অব্যাহতি মিললেও ওই ঘটনায় প্রায় তিন দশক মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি আরএসএ- স। ১৯৭৫ সালে ইন্দিরা গান্ধীর সরকার এই সংগঠনকে দ্বিতীয় দফা করে। তবে ১৯৮০-এর দশকের শেষে সম্পূর্ণ সাম্প্রদায়িক একটি আন্দোলনে অংশ নিয়ে উত্থান ঘটে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভেঙে সেখানে মন্দির নির্মাণের দাবি তোলে আরএসএস ও অন্যান্য কিছু কট্টরপন্থী হিন্দু সংগঠন। ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসও করা হয়। ওই সময় তৎকালীন সরকার তৃতীয় দফায় আরএসএসকে নিষিদ্ধ করে। পরে আদালতের আদেশে সেই নিষেধাজ্ঞা থেকে রেহাই পায় সংগঠনটি।

২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদিকে প্রধানমন্ত্রী পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণায় মুখ্য ভূমিকা রাখে সংঘ পরিবার। এর প্রতিদানও দিচ্ছেন মোদি। তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই ধীরে ধীরে পর্দার অন্তরাল থেকে বের হয়ে আসে সংগঠনটি।

দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিনির্ধার- ণী বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে এসব সংগঠনের প্রত্যক্ষ পরামর্শে। এসব শাখা আরএসএস-এর এক একটি ইউনিটের মতো। এগুলোতে হিন্দু যুবকদের মগজ ধোলাই করা হয় আরএসএস-এর ভাবধারা অনুযায়ী মোদি ক্ষমতায় আসার কিছুদিন আগ থেকে এবং তার ক্ষমতায় আসার পর থেকে আরএসএস-এর শাখাগুলোতে সদস্যসংখ্যার ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটে চলেছে ২০১০ সালের পর পুরো ভারতে আরএসএস-এর ১৯ হাজারের বেশি শাখা খোলা হয়েছে। এক রিপোর্ট অনুযায়ী বর্তমানে সারা ভারতে এই সংগঠনের ৫৭ হাজারের বেশি শাখা রয়েছে এবং প্রতি বছর শতকরা ৫১ ভাগ হারে তা বেড়ে চলেছে। প্রতি ফেব্রুয়ারী ২০ ইং

ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় হস্তক্ষেপে আরএসএস বেশি মনোযোগ দিয়েছে এবং এটিই কৌশলগত দিক থেকে সবচেয়ে । কারণ, বর্তমান তরুণ প্রজন্মের কচি মাথায় হিন্দুত্ববাদ ঢুকিয়ে দেওয়ার চেয়ে ভালো কিছু আর হয় না। এক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) ও শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাস (এসএসইউএন)। ২০১৬ সালে টি এস আর সুব্রাহ্মি নয়ামের করা খসড়া শিক্ষানীতি বাতিল করায় এবিভিপি।

বছর হিন্দু যুবকেরা ব্যাপকহারে এতে যোগ দিচ্ছে। আরএসএস-এর সদস্যদের শতকরা ২৯ জন বড় বড় ব্যবসায়ী। জয়েন। আরএসএস’ শিরোনামে চালানো প্রচারাভিযানের ফলে ২০১৩ সালে দরখাস্ত জমা পড়েছিল ২৮ হাজার ৮৪৩টি। অথচ শুধু গত বছরেই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দরখাস্ত জমা পড়ে এক লাখ তিন হাজার।

নিজেদের ওয়েবসাইটে আরএসএস বলেছে, যেকোনো ‘হিন্দু’ পুরুষ তাদের সংগঠনের সদস্য হতে পারবে। ভারতের খ্রিষ্টান ও মুসলিমদের ধর্মীয় অস্তিত্ব স্বীকারই করে না এই সংগঠন। তারা বলে থাকে, দেশটির খ্রিষ্টান ও মুসলিমরাও নাকি বৃহত্তর অর্থে ‘হিন্দু’। আবার হিন্দু পুরুষদের সদস্য করার ক্ষেত্রে সংগঠন যতটা আগ্রহী, নারীদের ক্ষেত্রে ঠিক ততটা নয়। নারীদের জন্য রাষ্ট্র সেবিকা সমিতি নামে আলাদা সংগঠন আছে আরএসএস-এর প্রকাশ্যেই মুসলিম খ্রিষ্টান বিরোধিতার কথা বলে আরএসএস। তাদের দাবি, ভারতে হিন্দু আধিপত্য ও হাজার বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। বহুত্ববাদের কোনো হাজার গ্রহণযোগ্যতা এই সংগঠনের কাছে নেই। আরএসএস করে, ধর্মনিরপেক্ষতার ভারতের নামে অথতা ক্ষতিরান্ত হচ্ছে। এর ফলে

দেশের অর্থনৈতিক ও নৈতিক দেউনি বারংবার প্রাচীন ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনার কথা বললেও আরএসএস-এর সদস্যদের সাংগঠনিক পোশাক হল পাশ্চাত্য ঢঙের। তা হল সাদা শার্ট ও থাকি হাফপ্যান্ট।

ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় হস্তক্ষেপে আরএসএস বেশি মনোযোগ দিয়েছে এবং এটিই কৌশলগত দিক থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বর্তমান তরুণ প্রজন্যের কচি মাথায় হিন্দুত্ববাদ ঢুকিয়ে দেওয়ার চেয়ে ভালো কিছু আর হয় না। যৌথভাবে কাজ করছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) ও শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাস (এসএসইউএন)। ২০১৬ সালে টি এস আর সুব্রাহ্মনিয়ামের করা খসড়া শিক্ষানীতি বাতিল করায় এবিভিপি এরপর এর পসন্দসই নতুন শিক্ষানীতি প্রণীত হয়। তাতে প্রাচীন মূল্যবোধ সংস্কৃত ভাষা সম্পর্কে জানার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংস্কৃত ভাষার ওপর কোর্স চালু করার বিষয়টি সংঘ পরিবারের অন্যতম এজেন্ডা। ২০১৬ সাল থেকেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সিলেবাসে সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যের ওপর কোর্স চালুর জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণা লয়ের আইআইটি কানপুরে তথাকথিত সংস্কৃত ও হিন্দু সাহিত্য সম্পর্কিত কোর্স চালুও হয়ে গেছে।

অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা এবিভিপির অধীনে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার স্কুল পরিচালিত হচ্ছে। এসব স্কুলে ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। ইন্ডিয়ান ব্যুরোক্রেসিতে নিজেদের ভাবাদর্শের লোকজন প্রবেশ করানোর জন্য আরএসএস-এর অধীনে পরিচাি লত প্রতিষ্ঠানের নাম সিম ক্লিপ। এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০০১ দিল্লীতে এটির শাখা রয়েছে ৩টি এবং গোটা ভারতে ১৪টি। গত বছর আইি সএস বা ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১০৭৮ প্রার্থীর মধ্যে ৬৪৬ জনই এই প্রতিষ্ঠানের কোচিং প্রাপ্ত। তাদের দাবি তাদের এখান থেকে কোচিংগ্রান্ত কমপক্ষে পাঁচ গোটা ভারতের ব্যুরোক্রেসিতে রয়েছেন। তাদের কোচিংপ্রাপ্ত যারা প্রতি বছর আইসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়, তাদের সম্মানে একটি অনুষ্ঠান করা হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *