মুসলিম ঘাতক নরেন্দ্র মোদীকে মুজিববর্ষে দেখতে চায় না বাংলার মানুষ

নাগরিকত্ব সংশোধন আইন, জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) এবং জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধক (এনপিআর) সম্পর্কিত সাম্প্রতিক পাশ হওয়া বিতর্কিত বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে সারা ভারত জুড়েই। রাজধানী দিল্লিও এর বাইরে নয়। এই বিক্ষোভ চলাকালে বিজেপি নেতা এবং প্রাক্তন বিধায়ক কপিল মিশ্র বিক্ষোভকারীদের বিক্ষোেভ বন্ধ করার জন্য একটি চূড়ান্ত সময় সীমা জারি করে হুমকি প্রদান করেন যে, বিক্ষোভ বন্ধ করা না হলে তিনি হামলে পড়বেন। তার এই হুমকির পরেই ২৪ ফেব্রুয়ারি উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে শুরু হয় সহিংসতা। একের পর এক ঝরতে থাকে প্রাণ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে ৪৬ জনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। মুসলমানদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়ি-ঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা করছে সংঘবদ্ধ আরএসএস সন্ত্রাসীরা। অনেকগুলো মসজিদে আগুন দিয়েছে। একটি মসজিদের মিনার থেকে মাইক ভেঙে ফেলে দিয়ে সেখানে হনুমানের গেরুয়া পতাকা ঝুলিয়ে দেওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মুসলিম নারী-শিশুদের ভয়ার্ত মুখাবয়ব ঘুরে ঘুরে ফিরছে ইন্টারনেটের স্কীন জুড়ে। এক কথায় মুসলমানদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক। এ শুধু দিল্লির চিত্র নয়; ভারতের বিস্তির্ণ অঞ্চল জুড়েই শংকায় আছে মুসলমানরা।

 

নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক মুসলিম স্বার্থবিরোধী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে চলছে। ভারতের স্বাধীনতাকালীন বহুজাতি ভিত্তিক পরিচয় মুছে ফেলে একটি নিরেট হিন্দু রাষ্ট্র বাস্তবায়নের পথে কদম কদম পথ চলছে। জোরপূর্বক ধর্মান্তরের ঘটনাও ঘটছে বিপুল হারে। মোদী সরকারের এহেন কর্মকান্ডে উদ্বিগ্ন ভারতের বোদ্ধা মহল। অনেকেই এর মাঝে ভারত ভাঙ্গণের আভাস দেখছেন। ভারতের হাজার বছরের ইতিহাসে মুসলমানদের অবদান অনস্বীকার্য। যে দিল্লিকে মুসলমানরা তিলে তিলে সাজিয়েছে, সমৃদ্ধ করেছে অনন্য সব গৌরবে, আজ সেই দিল্লির বাতাসে ভাসছে তাদের কান্নার সূর, মাটিতে বইছে তাদের রক্তের স্রোত। এ তো চরম নেমকহারামী! বিশ্বাসঘাতকরা কখনই দীর্ঘস্থায়ী সফলকাম হতে পারে না। ভারত যে বুনিয়াদের ওপর দাঁড়িয়ে বিগত পৌনে এক শতাব্দীকাল উন্নতি লাভ করেছে, একটি সমীহ জাগানিয়া জায়গায় উপনীত হয়েছে, বজরঙ্গের এই গেরুয়া বাহিনী আজ সেই বুনিয়াদটিকেই নড়বড়ে করে ছেড়েছে। এই অপশক্তিতে ভারতের মসনদ থেকে অপসারণ করতে না পারলে ভারতের সামনেসমূহ বিপদ আর বহুধাবিভক্তির শংকা অত্যাসন্ন।

 

ভারতজুড়ে চলমান অস্থিরতার মধ্য দিয়ে নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। আগামী ১৭ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন হচ্ছে বাংলাদেশে। আর এই মহাযজ্ঞের অতিথি হিসেবে তাতে যোগদান করার কথা গুজরাটদাঙ্গা, মুসলিম হত্যা ও সাম্প্রদায়িকতার খলনায়ক নরেন্দ্র মোদীর। বাংলাদেশের মানুষ এটাকে এমনিতেই মেনে নিতে পারছিল না। তার ওপর দিল্লির সহিংসতা আগুনে ঘু ঢালার কাজ সেরেছে। ইসলামী দলগুলো সম্মিলিতভাবে ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে। বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। বড় ধরনের কোনো কর্মসূচিও ঘোষণা হতে পারে। নরেন্দ্র মোদীর মতো একজন বিতর্কিত ও সাম্প্রদায়িক ঘাতক অতিথি হিসাবে যোগ দিলে মুজিববর্ষ কলংকিতই হবে বৈকি। বাংলাদেশ সরকার তার দেশের জনগণের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে পদক্ষেপ নিবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *