মুসলিম শেকড়

একজন কথা প্রসঙ্গে বললেন,

-আপনি কম্পিউটারের সিস্টেম পছন্দ করেন?

কোন অপারেটিং

-সবাই উইন্ডোজ চালায়। আমিও। -আমি ম্যাক পছন্দ করি।

-কেন?

-ম্যাক তৈরির কারিগর স্টিভ জবস।

-তো…?

-তার শরীরে আরব-মুসলিম রক্ত আছে! -কিন্তু যতদূর জানি, তার বাবা-মায়ের বিয়েই হয়নি। এমন মুসলিম নিয়ে গর্ব করার কী আছে? এটা যত লুকানো যায়, ততই ভালো। স্টিভের মুসলিম কানেকশনকে গুরুত্ব দেওয়ার মানে হল, তার বাবা-মার কাজ সমর্থন করা। আমেরিকা-ইউরোপের এই বিবাহ-বহির্ভূত একসাথে থাকার প্রথা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এটি একটি ঘৃণিত পথ ও পন্থা ।

হঠাৎ ম্যাকের কথা উঠল কেন? কারণ তো অবশ্যই আছে। বিল গেটসকে প্রশ্ন করা

হয়েছিল, -আপনার জীবনে কোনো অতৃপ্তি আছে কি? তাছ-জ্বী আছে। আরবী ভাষা শিখতে পারিনি,

এই আক্ষেপ আমার সব সময় হয়।

বিলের কথা শুনে বগল বাজানোর কোনো কারণ নেই। তিনি শুধু আরবী ভাষার কথাই বলেননি, তিনি ফরাসি ও ম্যান্ডারিন ভাষার কথাও উল্লেখ করেছেন। এই কথার সূত্র ধরে কিছু মানুষ বলা শুরু করবেন, বিল গেটস ইসলামগ্রহণ করেছেন। এই একটা ব্যাপার বেশ লজ্জাজনক। ইউরোপের কেউ ইসলাম নিয়ে ইতিবাচক কিছু বললেই, আমাদের কেউ কেউ আনন্দে বেসামাল হয়ে পড়েন। কেন? কেন?

প্রিন্সেস ডায়ানা গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ায় অনেকেই পরোক্ষভাবে প্রিন্স চার্লসকে দায়ী করেছিলেন। যদিও এই ঘটনার আগেই তাদের বিয়ে ভেঙে গিয়েছিল। আমাদের কেউ কেউ ডায়ানার পক্ষে কথা বলেছিল ইসলামের পক্ষের দাবিদার এক পত্রিকা তো বিষয়টা ফলাও করে প্রচার করেও ছিল। কারণ? তার হারাম সম্পর্ক ছিল এক মুসলি-ে মর সাথে। দোদি আল-ফায়েদ। একজনের হারাম কাজের সূত্র ধরে আরেক অমুসলিম নারীকে সমর্থন করা? এ-কেমন রুচি। ইসলামের সূত্রে আগ্রহ পোষণ করলে ডায়ানা নয়, তার স্বামী/ প্রিন্স চার্লসের প্রতি আগ্রহী হওয়ার মতো কারণ আছে। ১৯৯৩ সালের একটা ঘটনা। অফোর্ড ইউনিভার্সিটি ‘সেন্ট রি অফ ইসলামিক স্ট্যাডিজ’ নামে একটা নতুন ফ্যাকাল্টি খোলে। ১৯৯৩ সালের ২৭শে অক্টোবর এটার উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রিন্স ছিলেন প্রধান অতিথি প্রধান অতিথির ভাষণে প্রিন্স পাশ্চাত্য সভ্যতা ও ইসলামের তুলন মিমূলক আলোচনা করেছিলেন। তার চুম্বকাংশ ছিল এই –যখন আমাদের কিং আলফ্রেড রান্নাবান্না বিষয়ক বইপত্র নিয়ে ব্যস্ত, তখন স্পেনের মুর মুসলমানরা ছিল বিজ্ঞানসা ধনায় মগ্ন। স্পেনের কুতুবখানায় সেই সময় চার লাখ কিতাব মজুদ ছিল। ইউরোপের সমস্ত পাঠাগারের সম্মিলিত বইয়ের সংখ্যাও এত নয়। -মুসলমানদের পক্ষে এটা এজন্যই সম্ভব হয়েছে, তারা চীন থেকে কাগজ তৈরির কৌশল ইউরোপের চারশ’ বছর আগেই শিখে গিয়েছিল।

ইউরোপের একটা বৈশিষ্ট্য হল খোলামেলা হওয়া। সবকিছুতে। মনের গোপন ভাব প্রকাশেও তারা খোলামেলা। প্রিন্স এই বক্তব্যে এক প্রকার নিজেদের বিরুদ্ধেই স্বীকৃতি দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও তিনি খোলাখুলিভাবেই নিজের মতামত তুলে ধরেছেন। তবে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে, বক্তব্যটা তার নিজের লেখা ছিল কি না। এই যে তাদের খোলামেলা মনোভাব, সত্য পরিস্ফুট হয়ে উঠলে সেটাকে স্বীকার করে নেয়ার মানসিকতা, এটা ইসলামের দাওয়াতের বিরাট এক সুযোগ। তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগুলোকে কাটিয়ে খালিস মুখলিস দাঈ দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে, ইউরোপ ইসলামের দাওয়াতের জন্য একটি উর্বর ক্ষেত্র। আবার ঢালাওভাবে এটা ভেবে বসাও ঠিক হবে না, ইউরোপ সবক্ষেত্রে সভ্যকথনে অভ্যস্ত।

নিজেদের স্বার্থরক্ষায় যেন কাজ নেই, যা করতে তারা কসুর করেছে। ইসলাম স্বাভাবিকভাবেই ফিতরতি (সহজে গ্রহণযোগ্য) ধর্ম মানু ষর স্বভাবের সাথে সাংঘর্ষিক কিন্তু ইসলামে নেই। পাশ্চাত্যের সাধারণ জনগণের সত্যকে মেনে নেয়ার যোগ্যতাও সহজাত। কারো কাছে, ইসলামের সৌন্দর্য প্রকাশ পেয়েছে, আর মুসলমান হয়নি, এমন ঘটনা বিরল। এখন কাজ হল, ইসলামের এই ‘ফিতরতি’ বৈশিষ্ট্যের সাথে ইউরোপের পরিচয় ঘটিয়ে দেওয়া। শুধু ইউরোপ কেন, সমস্ত মানবতার কাছেই ইসলাম আজ বিকৃতভাবে উপস্থাি পত। ইসলামের সঠিক রূপটা তাদের সামনে তুলে ধরতে পারলে, মানুষ সহজেই গ্রহণ করবে। প্রশ্ন হল, ইসলামের সঠিক রূপটা কী? এই প্রশ্নটা দিনদিন প্রকট হয়ে দেখা দিচ্ছে। তাই ঝামেলায় না গিয়ে, প্রথমে তাওহীদের দাওয়াত দেওয়াটাই নিরাপদ।

আর হ্যাঁ, অক্সফোর্ডের এই ইসলামিক স্ট্যাডিজের প্রধান ছিলেন সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ.। এই উদ্বো ধনী অনুষ্ঠানে তিনিও আমন্ত্রিত হয়ে উপস্থিত ছিলেন। অনেক বক্তব্য ও লেখায় তিনি এই অনুষ্ঠানের কথা বলেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *